
উর্দুর নিজস্ব কোনো প্রাচীন স্বতন্ত্র লিপি নেই। ত্রয়োদশ শতক থেকে ফারসি লিপিকে ভিত্তি করে নস্তালিক (Nastaliq) স্টাইলে ডান দিক থেকে বামে লেখার রীতিতে উর্দু লিপি গড়ে ওঠে।
হিন্দি এবং উর্দু মূলত একই মূল ভাষা (হিন্দুস্তানি) থেকে এসেছে। কথ্য রূপের দিক থেকে এগুলো বেশ কাছাকাছি বা পারস্পরিক বোধগম্য।
পার্থক্য হলোঃ— উর্দু লেখা হয় ফারসি-আরবি হরফে এবং এতে আরবি-ফারসির ব্যবহার বেশি; অন্যদিকে হিন্দি লেখা হয় দেবনাগরী লিপিতে এবং এতে সংস্কৃত শব্দের প্রভাব বেশি।
১৮৩৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফারসি বাদ দিয়ে উর্দুকে তাদের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে উর্দু পাকিস্তানের জাতীয় রাষ্ট্রভাষা এবং ভারতের অন্যতম স্বীকৃত সরকারি ভাষা।
সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে (১৬২৮–১৬৫৮) সেনানিবাসের ভাষা হিসেবে এর নাম দেওয়া হয় ‘উর্দু’। এর আগে এটি হিন্দভি, হিন্দুস্তানি, দেহলভি বা রেখতা নামে পরিচিত ছিল।মূলত সৈন্যশিবির, বাজার ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এটি গড়ে ওঠে বলে একে অনেক সময় ‘লশকরি জবান’ বা শিবিরের ভাষাও বলা হয়।
উর্দু’ শব্দটি এসেছে তুর্কি শব্দ ‘ওর্দু’ থেকে, যার অর্থ সামরিক শিবির বা ক্যাম্প। খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় স্থানীয় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ ভাষার সাথে ফারসি, আরবি ও তুর্কি ভাষার মিশ্রণে এই ভাষার ভিত্তি তৈরি হয়। মুঘল আমলে এটি পূর্ণতা লাভ করে।
সুফি মোহাম্মদ আহসান হাবীব, সম্পাদক, ভাষা টিভি।
Leave a Reply