
তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং
প্রতিবেদনে: মোঃ মাহাবুবুর রহমান
সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের জীবনসংগ্রামের গল্প লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও যাঁদের অভাব কাটে না, অথচ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা করে যান। তেমনই একজন সংগ্রামী মানুষ মোহাম্মদ তায়েব আলী। গাজীপুর মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে সবজি বিক্রি করে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার। সেই আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসায়।
১৫ বছর ধরে সবজি বিক্রি করে সংসার চালান
মো. তায়েব আলী। পিতা মৃত হাভেজ আলী, মাতা বেলোনা। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার কুলারঘাট গ্রামে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছেন।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গাজীপুর মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা
২০১৯ সালে নিজ এলাকায় পড়ে গিয়ে তাঁর স্ত্রী বিবি হাওয়া (৪৫)-এর কোমরের দুটি হাড় ভেঙে যায়। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় করেন তায়েব আলী। বর্তমানে স্ত্রীর ওষুধের পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়। অসুস্থতার কারণে তাঁর স্ত্রী স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না।
তিন কন্যাসন্তানের জনক তায়েব আলী। ইতোমধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখন অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাঁকে একাই।
রাত ৩টায় শুরু, শেষ হয় রাত ১১টায়
তায়েব আলীর প্রতিদিনের জীবন যেন এক নিরন্তর সংগ্রাম। যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই তাঁর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়।
রাত ৩টার দিকে ভ্যান নিয়ে ছুটে যান গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস পাইকারি বাজারে। সেখান থেকে সবজি কিনে এনে ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লায় বিক্রি করেন।
দীর্ঘ সময় পরিশ্রমের পরও বিশ্রামের সুযোগ খুবই সীমিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দিনে মাত্র চার ঘণ্টার মতো ঘুমানোর সুযোগ পান তিনি।
আয় সীমিত, খরচের বোঝা অনেক
পরিবার নিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন তায়েব আলী। প্রতি মাসে ঘরভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মাসিক ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানান তিনি। এর বাইরে রয়েছে খাবার, সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ এবং স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়।
এক দিন সবজি বিক্রি করতে না পারলেই সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তায়েব আলী বলেন, “ছেলে নাই, তিনটা মাইয়া। দুইটারে বিয়া দিছি। বউডাও অসুস্থ। সবজি বেইচা বউয়ের চিকিৎসা, খাওন-পড়ন, ঘর ভাড়া সব চালাইতে হয়। খুব কষ্টে আছি।”
তাঁর এই কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে একজন অসহায় স্বামীর দায়িত্ববোধ, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
তায়েব আলীর জীবনসংগ্রাম শুধু একজন সবজি বিক্রেতার গল্প নয়; এটি অসুস্থ জীবনসঙ্গীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একজন স্বামীর নিরলস প্রচেষ্টারও গল্প।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পরিবারটির পাশে দাঁড়াবেন। বিশেষ করে বিবি হাওয়ার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা পেলে পরিবারটির দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই তায়েব আলীর মতো সংগ্রামী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
📺 ভাষাটিভি (BhashaTV)
📰 তথ্য সরবরাহকারী নিউজ এজেন্সি
সত্য প্রতিদিন | ভাষাটিভি
🌐 www.Bhashatv.com
Leave a Reply