
এমএলএম এর শুরুটা হয়েছিল ঔষধ ব্যবসা নিয়ে। একজন ভোক্তা পন্য সেবা ক্রয় করে অন্য ২ জনের কাছে উক্ত পন্য সেবা বিক্রি করে কমিশন পাবে। এরপরে ওই দু’জনে ৪ জন, এভাবে গাণিতিক হারে মাল্টি লেভেলে বিক্রি করে আয় করবে। এটাই হলো এমএলএম এর মূল কনসেপ্ট।
পৃথিবীর অনেক দেশেই এমএলএম ভিত্তিক কোম্পানি চালু আছে। এর অধিকাংশগুলোই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। আমেরিকাসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই আইন করে বন্ধ করা হয়েছে বহু এমএলএম কোম্পানি। কিন্তু এতেও থেমে যায়নি এ কারবারের আগ্রহী ব্যক্তিরা।
আমাদের দেশে প্রথমে এমএলএম এসেছে ঔষধ নিয়ে। এরপরে ফরম বিক্রি, বিভিন্ন পন্য বিক্রয়, স্বর্ণ ইনভেস্ট, ফুড সাপ্লিমেন্ট, কো-অপারেটিভ সোসাইটির, কিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন, বিদেশে বিনিয়োগ ইত্যাদি সেবার আঁড়ালে মুলত ফ্রড করে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এবং বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া।
আমাদের দেশের বর্তমান এমএলএম কোম্পানি পুরোপুরি অন্ধকার এবং বায়বীয় একটি প্রতারণা বানিজ্য।
বর্তমান বাংলাদেশে এমএলএম এর সর্বশেষ ভার্সন নিয়ে এসেছে রিয়েল এস্টেট, কক্সবাজার, ঢাকা, চট্টগ্রামে বিলাসবহুল বহুতল ভবন কিংবা হোটেলে ইনভেস্টমেন্ট। যেখানে আবাসন সংস্থা রিহ্যাবের মেম্বার আছে এরকম ৩০০ অধিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে বা উধাও এবং টাকা মেরে চলে গেছে।
রিয়েল এস্টেট বা আবাসন ব্যবসার ছদ্মবেশে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা পিরামিড স্কিম মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আত্মসাৎ করার একটি প্রতারণামূলক কৌশল।
যেভাবে এই প্রতারণা ফাঁদ পাতা হচ্ছে:
* অস্বাভাবিক মুনাফার লোভ: জমিতে বা ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ করলে খুব কম সময়ে দ্বিগুণ বা অস্বাভাবিক বেশি মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।
* মেম্বার সংগ্রহ বা চেইন বৃদ্ধি: শুধু জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি নয়, নতুন বিনিয়োগকারী বা গ্রাহক বানাতে পারলে বাড়তি কমিশন বা শেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়।
* প্রকৃত সম্পদের অভাব: অনেক সময় কাগজে-কলমে বা জলাশয়/খাস জমিকে আকর্ষণীয় প্রজেক্ট হিসেবে দেখানো হয়, যার বাস্তবে কোনো আইনি ভিত্তি বা অনুমোদিত প্লট থাকে না।
* নতুন টাকার ফান্ড দিয়ে পুরোনোদের লাভ: নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়েই পুরোনোদের মুনাফা দেওয়া হয়, যা একপর্যায়ে কোম্পানি উধাও হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায়! অতি সম্প্রতি যেমনটা হয়েছিল এহসান গ্রুপ বা অন্যান্য স্কিমের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের আইনি অবস্থা:
* বাংলাদেশে এমএলএম ব্যবসা এবং অননুমোদিত চেইন মার্কেটিং আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও মানুষ আইনের ফাঁকফোকরে জনমানুষের অতিলোভ এবং অসচেতনতার কারণে এব্যবসা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে।
* বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের প্রতারণামূলক রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও একশ্রেণীর অসাধু প্রতারক চক্র ও অতি লোভী কিছু লোক এই প্রতারণা দিব্যি করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনি সতর্ক না হলে এর ভয়াবহতা কতটা ভয়ঙ্কর তা বিগত সময়ে বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানির প্রতারণার দিকে ফিরে তাকালে বিষয়টি সহজেই অনুমেয় করা যায়।
এমএলএম কোম্পানির প্রতারণার শিকার না হয়ে চাইলে নিজেরা কয়েকজন মিলে ল্যান্ড শেয়ারিং করে এপার্টমেন্ট তৈরি প্লট/ফ্ল্যাট ব্যাবসা শুরু করতে পারেন।
এছাড়াও আপনি ব্যাংকে গিয়ে জেনে নিন ব্যাংক ১ লক্ষ টাকায় কত টাকা লাভ দিচ্ছে এবং কত টাকা লাভ নিচ্ছে। যদি দেখেন যে, এরচেয়ে বেশির অফার দিচ্ছে তাহলে মনে করতে হবে এ সকল কোম্পানি আপনাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার কৌশল অবলম্বন করছে।
বর্তমান সময়ে অনেকেই বুঝে-নাবুঝে এই প্রতারণার ফাঁদে পা রাখছেন।
সুতরাং নিজে সতর্ক হোন এবং অন্যান্যদেরও এই প্রতারণার বিষয়টি সতর্ক করুন।
Leave a Reply