
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে দেশে আসছে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়াবহ মাদক এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। এই চোরাচালান চক্রের কারণে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকেরা তীব্র সার সংকটে ভুগছেন।এই সংকটের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:কৃষকদের হাহাকার: কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়াসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় আমন ও বোরো চাষের মৌসুমে সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ডিলারদের কাছে হন্যে হয়ে ঘুরেও সার না পেয়ে অনেকের ধানক্ষেত হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই সংকটকালীন সময়েই সীমান্ত দিয়ে টন কে টন সার পাচার হয়ে যাচ্ছে।
পাচারের ধরন ও রুট: চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জলপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে এই সার মিয়ানমারে পাচার করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কোস্টগার্ড মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে কার্গো বোটে তোলার সময় ৩০ হাজার কেজি (৩০ টন) ইউরিয়া সারসহ পাচারকারীদের আটক করেছে। এছাড়া কক্সবাজার অঞ্চলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার কেজির বেশি সার জব্দ করা হয়েছে।
মাদকের অনুপ্রবেশ: সীমান্ত দিয়ে ইউরিয়া সার পাচারের বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে মরণনেশা ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। একই অপরাধী চক্র দুই দিকেই কাজ করায় সার বিক্রির অবৈধ টাকা সরাসরি মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগ হচ্ছে।
বোমা তৈরির আশঙ্কা: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাচার হওয়া ইউরিয়া সার মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কেবল কৃষিকাজে নয়, বরং বোমা বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
দেশের কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং মাদক ও অস্ত্রের এই মারাত্মক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB), কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সীমান্ত এলাকায় তাদের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করেছে।
Leave a Reply