
গাজীপুর প্রতিনিধি: স্বামীকে হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। ভেঙে গেছে সংসার, দূরে সরে গেছে সন্তানরাও। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় আজ ফজিলা বেগমের ঠিকানা গাজীপুরের একটি নির্মাণস্থল। সেখানে ইট-বালু আর সিমেন্টের ধুলোর মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
গাজীপুরের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ চলাকালে ইটের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় ফজিলা বেগমকে। পরনে ময়লা কাপড়, হাতে বালুর দাগ। তাঁর জীবনের গল্প শুনলে বোঝা যায়, অভাব আর স্বজন হারানোর বেদনা কীভাবে একজন মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে বাধ্য করে।
ফজিলা বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায়। একসময় তাঁর সংসার ছিল, ছিল স্বামী-সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুতে সেই সংসার ভেঙে যায়। পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে হলেও সেই সংসারও টেকেনি। একপর্যায়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে।
ফজিলার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে-মেয়েরাও এখন তাঁর কাছ থেকে দূরে। মেয়েকে নিজের উদ্যোগে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে বড় হলেও মায়ের খোঁজখবর নেয় না বলে আক্ষেপ তাঁর।
দৈনিক ৪০০ টাকা, মাসে কাজ মেলে মাত্র ১০ দিন
বর্তমানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন ফজিলা বেগম। প্রতিদিন কাজ পান না। কাজ পেলে মজুরি পান ৪০০ টাকা। মাসে ১০ দিন কাজ করতে পারলে আয় হয় মাত্র ৪ হাজার টাকা।
এই সামান্য আয় দিয়ে বাসাভাড়া, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজ না থাকলে খাবার জোগাড় করাও অনিশ্চিত হয়ে যায়।
ফজিলা বেগমের অভিযোগ, তিনি কোনো বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না। স্বামীর পরিবার থেকেও সহযোগিতা পান না, সন্তানদের কাছ থেকেও তেমন সহায়তা মেলে না।
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যেদিন কাজ করি, সেদিন খাই। যেদিন কাজ থাকে না, সেদিন না খেয়ে থাকতে হয়।”
কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি মুছছিলেন ফজিলা বেগম। তাঁর জীবনের গল্প যেন অসহায়ত্ব, স্বজন হারানোর বেদনা আর টিকে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের এক বাস্তব চিত্র।
অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াবে কে?
গাজীপুর একটি শিল্পাঞ্চল। কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও ফজিলা বেগমের মতো অনেক অসহায় মানুষ প্রতিদিন জীবিকার জন্য সংগ্রাম করছেন। বিশেষ করে স্বামীহারা ও পারিবারিক সহায়তাবঞ্চিত নারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফজিলা বেগমের মতো অসহায় নারীরা সরকারি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর আর্থিক অবস্থা যাচাই করে বিধবা ভাতা বা প্রযোজ্য অন্য কোনো সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
ফজিলা বেগমের জীবনসংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, তাঁর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কিছুটা সাহস জোগানোও।
তথ্য সংগ্রহে: মোঃ মাহাবুবুর রহমান
📺 ভাষাটিভি (BhashaTV)
তথ্য সরবরাহকারী সংবাদ সংস্থা
সত্য প্রতিদিন | ভাষাটিভি
🌐 www.Bhashatv.com
#ফজিলা_বেগম #গাজীপুর #নির্মাণশ্রমিক #নারীর_জীবনসংগ্রাম #মানবিক_সহায়তা #সড়ক_দুর্ঘটনা #ভাষাটিভি #বাংলাভিউ #লিংকডইন
Leave a Reply