1. online@bhashatv.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@bhashatv.com : admin :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার পরিচয়ে ভয়ভীতি, তদবির বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইল: আইনের আওতায় আসবে কারা?

Reporter Name
  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ পাঠ করা হয়েছে

গাজীপুরের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, আইন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন
গাজীপুর প্রতিনিধি | ভাষাটিভি
সাংবাদিকতা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখান, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন, তদবিরের নামে সুবিধা আদায় করেন কিংবা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে তা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি, প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ মাঝেমধ্যে আলোচনায় আসে। তবে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? প্রকৃত সাংবাদিক ও পরিচয়ের অপব্যবহারকারীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের উপায় কী? আর প্রতিকার পেতে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?
সাংবাদিক পরিচয় কি বিশেষ কোনো ক্ষমতা দেয়?
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। তবে সাংবাদিক পরিচয় কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না কিংবা পুলিশ, প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশেষ কোনো আইনগত কর্তৃত্ব প্রদান করে না।
প্রেস কার্ড, সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যপদ অথবা কোনো সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকলেই কেউ সব ধরনের ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান না। একইভাবে, নির্দিষ্ট কোনো কার্ড না থাকলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া সাংবাদিক বলা যায় না।
কারও সাংবাদিক পরিচয় যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নাম, কর্মস্থল, পদবি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক বা দাপ্তরিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
সাংবাদিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয় বৈধ হলেও কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
সাংবাদিকতার নামে ভয়ভীতি ও অর্থ আদায়: কী বলে আইন?
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী, অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে।
দণ্ডবিধির ৫০৩ ও ৫০৬ ধারা: কাউকে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা বা তাঁকে এমন কোনো কাজ করতে কিংবা না করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে ভয় দেখানোর ঘটনা অপরাধমূলক ভয়ভীতির আওতায় পড়তে পারে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ৫০৬ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।
দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা: ভয় দেখিয়ে অসাধুভাবে অর্থ বা সম্পদ আদায়ের অপরাধমূলক চাঁদাবাজি প্রমাণিত হলে এ ধারায় শাস্তি হতে পারে।
দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারা: চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে কাউকে ক্ষতির ভয় দেখানো বা দেখানোর চেষ্টা করলে ঘটনার উপাদান অনুযায়ী এ ধারার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগের বিবরণ, প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং আইনের প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর।
কোনো সংবাদ প্রকাশের কথা বলা মাত্রই সেটি অপরাধ হয়ে যায় না। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ সাংবাদিকতার স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি, বেআইনি সুবিধা আদায় কিংবা কাউকে অন্যায়ভাবে চাপ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি আইনগত তদন্তের দাবি রাখে।
ভুয়া সাংবাদিক শনাক্ত করবে কে?
সাংবাদিক পরিচয় যাচাই এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিকতার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক ভূমিকা রয়েছে।
১. সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ
কোনো ব্যক্তি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিলে তাঁর পরিচয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কেউ প্রতিষ্ঠানের নাম বা পরিচয়পত্র অপব্যবহার করলে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
২. বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের পেশাগত নীতি-নৈতিকতা-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অভিযোগ বিবেচনার ব্যবস্থা রয়েছে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেস কাউন্সিলের কাছে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।
৩. পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক হুমকি বা অন্য কোনো অপরাধ করলে অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আইনানুগ তদন্ত করতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃত সাংবাদিক কি না, তা অপরাধের অভিযোগ তদন্তের একমাত্র শর্ত নয়।
গাজীপুরের সাধারণ মানুষ কী করবেন?
সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ ফোন করে হুমকি দিলে, অর্থ দাবি করলে কিংবা কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্র এবং তিনি কোন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করুন।
ফোনকল, বার্তা, অর্থ দাবির তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আইনসম্মতভাবে সংরক্ষণ করুন।
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক বা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করুন।
অপরাধের অভিযোগ থাকলে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ দিন এবং অভিযোগ গ্রহণের প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট নম্বর সংরক্ষণ করুন।
তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি দেখা দিলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
প্রয়োজন হলে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’, ‘চাঁদাবাজ’ বা অপরাধী হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ প্রয়োজন।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি—দুটিই জরুরি
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এই স্বাধীনতা রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি পেশার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিককে হয়রানি বা বেআইনি সুবিধা আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গাজীপুরের সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত তাদের কর্মরত সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের পরিচয় যাচাইয়ের সহজ ব্যবস্থা রাখা। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনেরও উচিত সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সমুন্নত রেখে অপরাধের অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী তদন্ত করা। কোনো ব্যক্তির সাংবাদিক পরিচয় যেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ তদন্তে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—সাংবাদিকদের পরিচয় যাচাইয়ের স্বচ্ছ ও সহজলভ্য ব্যবস্থা জোরদার করা হোক। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারবেন এবং সাংবাদিকতার পরিচয় অপব্যবহারের অভিযোগের প্রতিকার পাওয়া সহজ হবে।
সাংবাদিক পরিচয় ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি সুবিধা আদায়ের লাইসেন্স নয়। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবেদকের পরিচিতি
মুহাম্মদ খাইরুল হাসান মামুন
জয়েন্ট কনভেনার
ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (IJA)
📺 সত্য প্রতিদিন | ভাষাটিভি
📰 তথ্য সরবরাহকারী নিউজ এজেন্সি
🌐 www.Bhashatv.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
  • All rights reserved © bhashatv.com
Design By Raytahost