
আতিকুল ইসলাম
সহ-সম্পাদক, দৈনিক বঙ্গজননী
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি কেবল একজন নির্বাচিত ব্যক্তি নন; তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাহক এবং তাদের কাছে জবাবদিহিতার প্রতীক। নির্বাচনের আগে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচনের পর জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও ততটাই অপরিহার্য।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম তৈরি হয়েছে। তবুও অনেক এলাকায় দেখা যায়, জরুরি প্রয়োজনে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। কখনও ফোন নম্বর অপ্রাপ্য, কখনও কোনো নির্দিষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় এবং জনপ্রতিনিধি ও জনগণের দূরত্ব বাড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি জনপ্রতিনিধির কার্যালয়ের অধীনে একটি ২৪ ঘণ্টার হটলাইন বা কার্যকর যোগাযোগকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। এটি এমন একটি ব্যবস্থা হতে পারে, যেখানে প্রশিক্ষিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নাগরিকদের অভিযোগ, পরামর্শ ও জরুরি তথ্য গ্রহণ করবেন এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জনপ্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেবেন। এতে নাগরিক সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি জনপ্রতিনিধির প্রতি জনগণের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।
অবশ্যই একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে দিন-রাত সব ফোন গ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু একটি সুসংগঠিত টিম বা হটলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব। আধুনিক গণতন্ত্রে এটিকে বিলাসিতা নয়, বরং জনসেবার একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। সংকটের মুহূর্তে একজন নাগরিক কত দ্রুত তাঁর প্রতিনিধির কাছে পৌঁছাতে পারছেন, সেটিও জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করতে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি কার্যকর ২৪ ঘণ্টার হটলাইন বা নির্ধারিত নাগরিক যোগাযোগব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবার সময় এসেছে। জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সংযোগই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত শক্তি এবং গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।
Leave a Reply