1. bhashatvnews@gmail.com : বার্তা বিভাগ :
  2. editor@bhashatv.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  3. bhashatvnews11@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  4. shahjamal.press@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন জন্য চাপ দিলেন পল কাপুর। - bhashatv.com
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন জন্য চাপ দিলেন পল কাপুর।

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় দুই দিনের সফরে এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। সফরের শুরুতেই তিনি বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টার আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান পল কাপুর। দিনের শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি উঠে আসে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগের আগে পল কাপুর বলেন, ‘বৈঠক ভালো হয়েছে।’ এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘এখানে আসতে আমাদের সবসময় ভালো লাগে।’

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেন। প্রায় ২০ মিনিটের এ আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও বাংলাদেশকে নীতিগত উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলার বার্তাও নতুন সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য কমাতে বাংলাদেশকে অন্তত ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এর বিনিময়ে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।

এ চুক্তি নিয়ে দেশে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিমানের বাণিজ্যিক চাহিদা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে এই কেনাকাটা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক চাপও থাকতে পারে।

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বোয়িং কেনার তাগিদ মূলত কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষার অংশ। নতুন সরকারের কাছে আশা করা হচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদের সময় বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগোয়নি। পরে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিলে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনুসকে পূর্ণ সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়ই দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, মার্কিন চুক্তিতে একটি এন্ট্রি ক্লজ এবং একটি এক্সিট ক্লজ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এন্ট্রি ক্লজ হলো নোটিফিকেশন না হলে এটি কার্যকর হবে না। আমরা এখনো নোটিফিকেশনে যাইনি। সরকার চাইলে চুক্তিটি পর্যালোচনা করতে পারে। আর এক্সিট ক্লজ অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখলে হবে না। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো কী দিয়েছে এবং কী পেয়েছে সেটিও তুলনা করে দেখতে হবে। তার মতে, এসব দেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ভাষার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির ভাষাও প্রায় একই ধরনের।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রথম আলোচনা শুরু করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে এপ্রিল মাসে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপের পর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত আলোচনা চলে। ওই আলোচনার ফলেই বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেয়েছিল। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ দুটি বিষয়ে অনুরোধ করেছিল। একটি হলো আমেরিকান কটন বা ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং অন্যটি রুলস অব অরিজিন নিয়ে আলোচনা। এসব বিষয়ে সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সবাই সমস্যায় পড়বে। তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পল কাপুর এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি পল কাপুরের প্রথম বাংলাদেশ সফর। মূলত ঢাকা-ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যেই তিনি এ সফরে এসেছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং একটি নৈশভোজেও অংশ নিয়েছেন।

সফরের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথাও রয়েছে। সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
অনলাইন নিউজ টিভি ভাষা টিভি bhashatv.com একটি অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান "বাংলা ভাষা আন্দোলন পরিষদ"এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
Design By Raytahost