1. bhashatvnews@gmail.com : বার্তা বিভাগ :
  2. editor@bhashatv.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  3. bhashatvnews11@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  4. shahjamal.press@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য খেলা "গোল্লাছুট" - bhashatv.com
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য খেলা “গোল্লাছুট”

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯৪ বার পঠিত

শেখ নজরুল ইসলামঃ প্রকৃতির লক্ষ কোটি প্রাণির মাঝে মানুষও প্রাণি। মানুষ একটি বুদ্ধিদীপ্ত সামাজিক প্রাণি। প্রকৃতির মাঝে মানুষ সমাজবদ্ধ বসবাস করে। এই বসবাসের মাঝে সংস্কৃতি ও বিনোদন মানুষের জীবনে গুরুত্ববহন করে চলছে। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য বিনোদন অপরিহার্য। সেই নিনোদনের মাঝে গোল্লাছুট খেলা সামাজিক, সংস্কৃতিক, শারিরীক, মানসিক প্রশান্তির বিনোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

গ্রাম বাংলার কিশোর- কিশোরীদের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা গোল্লাছুট। আজ থেকে ত্রিশ চল্লিশ বছর আগে গ্রামের স্কুলগুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের জনপ্রিয় খেলা ছিল গোল্লাছুট। একই সাথে অনেক মানুষ খেলতে পারতো। গ্রামের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ রাতের বিনোদন ছিলো এই গোল্লাছুট। তখন গ্রামে টিভি ছিলো না তাই মানুষ মোড়ে মোড় বিভিন্ন স্ব নিবেদিত নাটিকা, গল্প, পুঁথিপাঠ চলতো রাত অবধি । মেল বন্ধনে সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চায় সুস্থ মানবিক সমাজ পেতাম।

গোল্লাছুট খেলাছিল সেই সময়ের অন্যতম বিনোদন। সেই সাথে দল বেঁধে গোল্লাছুট খেলা রাতে অন্যতম বিনোদন ছিলো।

গ্রাম ছাড়াও বাঙালির শহরাঞ্চলেও এই খেলা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে মানব মণিকোঠায় স্থান কার নিয়েছিল। এ খেলাটি ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল , খুলনা, পাবনায় এই খেলার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। এই খেলা বাইরে অর্থাৎ স্কুলের মাঠ অথবা খোলা জায়গায় শিশুরা খেলা করতো তবে এখনও অনেক গ্রামের স্কুল মাঠে গোল্লাছুট খেলা হয়ে থাকে।

এখানে নিজের গল্প বলা যায়, আমি নিজে রাতে এ গোল্লছুট খেলায় যুক্ত হতাম ছোট সময়। এখন গ্রামে গেলে গোল্লাছুট খেলার জনপ্রিয়তা রাস দেখতে পাই।
কারণ কৃত্রিম বিনোদনে ছয়লাপ গ্রাম বাংলা।

গোল্লাছুট খেলায় দুটি দল থাকে। মাটিতে এক জায়গায় গর্ত করে একটি লাঠি পুতে তাকে কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়, এই লাঠিকে কেন্দ্র করে বৃত্ত তৈরি করে ২৫/৩০ ফুট দূরে আরো একটি রেখা টেনে সীমানা নির্ধারন করা হয়।

নামকরণ,
বৃত্ত তৈরি করে ঘুরতে হয় বলে একে “গোল্লা” এবং আঞ্চলিক ভাষায় ছুট হলো দৌড়ানো। এভাবেই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট।

নিয়মকানুন,
খেলার শুরুতে প্রথম দুজন দলপতি নির্ধারন করা হয়। দলপতিদের বলা হয় “গোদা”। দুদলেই সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে (৫ জন থেকে শুরু করে ১৫ জন)। দলপতি মাটিতে পুঁতা কাঠি এক হাতে ধরে অপর হাতে তার দলের অন্য খেলোয়াড়ের হাত ধরে থাকে। এভাবে তারা পরস্পরের হাত ধরে কেন্দ্র স্পর্শ করে ঘুরতে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বৃত্তের বাইরে যে কাঠি বা গাছ (দ্বিতীয় লক্ষ্যবস্তু) থাকে তা দৌড়ে স্পর্শ করা।

অপরদিকে দৌড়ে বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পর কিন্তু কাঠি স্পর্শ করার আগেই বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা যদি ওই দলের কোন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করতে পারে তাহলে সে এই দানের (পর্ব) খেলা থেকে বাদ যাবে। এভাবে শেষ পর্যন্ত দলপতিরও দৌড়ে কাঠি স্পর্শ করতে হবে। কোনো খেলোয়াড়ই লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা দান পায়। এ ভাবেই গোল্লাছুট খেলা সমাপ্ত হয়।

তাই আজ আমারা টিভি বিনোদন, মোবাইল বিনোদন, কৃত্রিম বিনোদনের উপর নির্ভরতায় আজ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় খেলা গোল্লাছুট।

গোল্লাছুট খেলার উপকারিতা মধ্যে শারিরীক সুস্থতা, মানসিক সুস্থতা, ডায়াবেটিস এবং মানুষে মানুষে সংস্কৃতি, বিনোদন মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গঠন ও মুক্ত জীবন গড়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
অনলাইন নিউজ টিভি ভাষা টিভি bhashatv.com একটি অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান "বাংলা ভাষা আন্দোলন পরিষদ"এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
Design By Raytahost